টেরিবাজারে অভিযানে ৩৫ লাখ টাকার পোশাক জব্দ

অভিযান চালাতে গিয়ে নগরীর টেরিবাজারে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা, র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত দলকে। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ মে) দুপুরে এ অভিযানে বাধা পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। খবর বিডিনিউজের

টেরিবাজার বন্দরনগরীতে পোশাকের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার। এ গণ্ডগোলের পর টেরিবাজারের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশের সাথে বৈঠক করে মালিকদের দোকান খোলার অনুরোধ করেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। পরে বিকালে সিটি মেয়রের সাথে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা।

রমজানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদারের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থা অভিযান চালাচ্ছে। খাবারের মান, পণ্যের মান ঠিক না থাকলে কিংবা চোরাই পণ্য দেখলে জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে টেরিবাজারে অভিযানে যায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের যৌথ দল।

তারা সেখানকার ‘মনেরেখ’, ‘স্টারপ্লাস’ ও ‘মেগামার্ট’ নামের তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পোশাক জব্দ করে। মোট ৩৫ লাখ টাকা মূল্যমানের শাড়ি ও থ্রিপিস জব্দ করা হয় বলে জানায় কোস্টগার্ড।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘মনেরেখ’তে পোশাক জব্দ করার পর ওই দোকানের মালিক প্রতিবাদ জানান। তার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে মাইকে বাজারের সব দোকান বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়।

এরপর কয়েকশ’ দোকানের মালিক-কর্মচারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটার পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

অভিযানে অংশ নেয়া র‌্যাব-৭ এর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান বলেন, “অভিযানে ‘কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির’ সৃষ্টি হয়। কয়েকটি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই ভারতীয় পোশাক জব্দ করা হয়েছে। ব্যবসায়ী সমিতির মাইকে ঘোষণা দিয়ে অভিযানে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে জানান এ র‌্যাব কর্মকর্তা। এ বিষয়ে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “বেলা ১২টার দিকে ‘মনেরেখ’ দোকানে গিয়ে অভিযানকারী দলটি বিভিন্ন মালামালের কাগজপত্র দেখতে চায় এবং ভারতীয় কাপড় বলে জব্দ করা শুরু করে। খবর পেয়ে আমরা সেখানে ছুটে যাই। ওই সময় অভিযানকারী দলটিকে দোকানের কাগজপত্র দেখালেও তারা ভারতীয় কাপড় বলে তা গাড়িতে তুলে নেয়।”

ব্যবসায়ী নেতা হোসেনের অভিযোগ, ঢাকার মিরপুরে পুঁতি-পাথরের তৈরি হওয়া কাপড়ও নিয়ে যায় তারা। এসব কাপড় বাংলাদেশে তৈরি বলে জানিয়ে কাগজপত্র দেখানোর পরও তারা কোনো কথা শোনেনি।

তিনি বলেন, ‘চার/পাঁচ বছরের পুরানো কিছু কাপড় ছিল দোকানটিতে। তারা সেগুলোর কাগজপত্র দেখতে চায়। এতদিন পর্যন্ত কোনো কাগজপত্র রাখা হয় না। তারা ওইসব কাপড়ের পাশাপাশি কাগজপত্র দেখানো কাপড়ও নিয়ে যায়।’

অভিযানে বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে হোসেন বলেন, ‘র‌্যাব, কোস্টগার্ড অভিযানে যাওয়ার সময় মালিক সমিতির কেউকে জানায়নি। খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাওয়ার পর তারা আমাদের কোনো কথা শোনেনি। আমরা নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স পরিশোধ করি কিন্তু অভিযানের দলটি আমাদেরও গ্রেপ্তার করার হুমকি দেয়।‘

মালামাল নিয়ে যাবে এ ভয়ে মালিকরা দোকান বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করেন হোসেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যরা মালামাল নিয়ে চলে যাওয়ার সময় কর্মচারীরা বিক্ষোভ দেখান। তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রামের বৃহৎ এ পাইকারি বাজারে ঈদের সময় বেশি বেচাকেনা হয়। র‌্যাব, কোস্টগার্ডের অতর্কিত অভিযান ও লাঠিপেটার সময় বিপুল পরিমাণ ক্রেতা ছিল বাজারে।

তারা জানান, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যরা পুরো টেরিবাজার এলাকা ও অলিগলিতে দোকান মালিক কর্মচারীদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করেন। অনেক দোকান মালিক দোকান বন্ধ করার সময় তাদেরও লাঠিপেটা করা হয়।

তাদের লাঠিপেটায় দোকান মালিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি কয়েকজন পথচারী ও ক্রেতাও আহত হন বলে তাদের অভিযোগ। এসময় বিভিন্ন দোকানে ক্রেতারা আটকা পড়ে, ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের আগে এধরনের অভিযান চালানো হলেও পুলিশ প্রশাসনকে কিছু জানানো হয়নি।