ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট !

সীতাকুন্ডে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও আসক্ত লোকের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে ইয়াবা পাচারে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। গত চারমাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২৫টির মতো অভিযানে প্রায় তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব এবং পুলিশ। এতে আটক হয়েছে ১০ নারীসহ ৩০ইয়াবা ব্যবসায়ী।

জানা যায় কক্সবাজার চকরিয়া থেকে সীতাকুন্ড উপজেলায় ইয়াবা পাচার হচ্ছে সমানতালে। এতে উঠতি বয়সের যুবকেরা বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। ইয়াবার বিরুদ্ধে জনমত গঠন কিংবা সচেতনতা সৃষ্টিতে তেমন কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ইয়াবার ভয়াবহতা দেখে সীতাকুন্ডের বিভিন্নস্থানে মাদক বিরোধী সভাসমাবেশ করছে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও এলাকাকে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লহ আল বাকের ভুঁইয়া সীতাকুন্ডে বর্তমানে ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যর যে ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সীতাকুন্ড পৌরসদরের আমিরাবাদ, গজারিয়া, ভুইয়া পাড়া, ওয়াপদা গেইট, চৌধুরী পাড়া এবং বড় দারোগাহাটে কলাবাড়িয়া, ছোট দারোগারহাট, বাড়বকুন্ডের রেল স্টেশন, হাতিলোটা শান্তার দিঘির পাড়, মাহমুদাবাদ ব্রীজ এলাকা, ইয়াসীন নগর, অনন্তপুর, মান্দারী টোলা, নতুন পাড়া, সোনাইছড়ির ফুলতলা, জাফরাবাদ, দক্ষিণ ঘোরামারা, কুমিরা কোট পাড়া, ভাটিয়ারী, সলিমপুর পাক্কা মছজিদ, জঙ্গল সলিমপুর, কালুর শাহ, ফকিরহাট এলাকায় ইয়াবা ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। ভাটিয়ারীতে এক ইউপি সদস্য ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত বলে জানা যায়। উপজেলার প্রতিটি চায়ের দোকানে চলছে ইয়াবার বাণিজ্য। এতে উঠতি বয়সী যুবকেরা আসক্তি হয়ে পড়ছে। যার ফলে এলাকায় অপরাধ, চুরিসহ অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুলিশ কোন অপরাধীকে আটক করলেই তার সাথে ইয়াবাও পাওয়া যাচ্ছে। গত রবিবার বন্দুকযুদ্ধে সীতাকুন্ডে মারা গেছে রায়হান উদ্দিন রেহান নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। ইয়াবা ব্যবসার সাথে সে জড়িত। সে মারা যাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছে এলাকার অনেকে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযান বিভিন্নস্থানে চালানো প্রয়োজন মনে করছে এলাকাবাসী।

তবে ইয়াবা সেবী বৃদ্ধির কারন হিসেবে অনেকে পুলিশকে দায়ী করেছেন। বিভিন্ন সময় ইয়াবা পাচার কালে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করে। কিন্তু বড় বড় চালান ধরলেও বেশিরভাগ চালান আত্মসাত করে নিজেরাই সোর্সের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। আর পুলিশের কাছ থেকে অল্পদামে ইয়াবা কিনে চরম সর্বনাশে পতিত হচ্ছে যুবসমাজ।

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আহসান হাবিব জানান, টেকনাফকক্সবাজার থেকে বেশিরভাগ মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করছে। ইয়াবা পাচারকারীরা ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ককে নিরাপদ রুট মনে করছে। বারআউলিয়া থানার পাশে চেকপোস্ট থাকায় ইয়াবার চালানগুলো এখানেই বেশি ধরা পড়ছে। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ইফতেখার হাসান জানান, সীতাকুণ্ড থেকে মাদক নির্মূল করা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।