বড়উঠানে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে রাশেদা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩ সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ স্থানীয় জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। গতকাল দুপুরে পটিয়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। বাড়ির শৌচাগারে বাঁশের সাথে শাড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। ফলে তার মৃত্যু নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা রহস্য।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের ইউছুপ আলীর পুত্র জসিম উদ্দিনের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর আগে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের মনসা এলাকার আবদুল মোনাফের কন্যা রাশেদা আক্তারের বিয়ে হয়। সম্প্রতি জসিম আরেকটি বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী রাশেদার ঘরে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে ১ ছেলে রয়েছে বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও অশান্তি চলছিল বলে দাবি করা হয়। এই নিয়ে এলাকায় স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কয়েকবার সালিশ বৈঠক হলেও তা অমিমাংসিত থেকে যায়। ফলে পারিবারিক কলহের জের ধরে রাশেদার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলেই এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা তা বুঝা যাবে বলেও জানায় তারা। পটিয়া থানার উপপরিদর্শক বাসু দেব জানান, মঙ্গলবার দিনগত রাতে সেহেরি খেয়ে বাড়ির অন্য সবার মতো ঘুমাতে যান রাশেদা। কিন্তু সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাড়ির শৌচাগারে বাঁশের সাথে শাড়ি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এই ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান উপপরিদর্শক বাসু দেব।