ময়লা আবর্জনার চাপে মরতে বসা একটি পুকুর প্রাণ পেলো ইউএনওর ভূমিকায়

দীর্ঘ সময় ধরে ময়লা আবর্জনার চাপে মরতে বসা একটি পুকুর প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজার হস্তক্ষেপের কারণে। এর আগে পুকুরটি রক্ষায় ইউএনও কাছে আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন আবদুল লতিফ নামের এক আওয়ামীলীগ নেতা। জানা যায় উপজেলা সদরের ফকিরহাটের সাথে আলা মিয়া হাজীর বাড়ীর পেছনে ওই পুকুরটির অবস্থান। পূর্বপুরুষদের মালিকানায় থাকা এই পুকুরটির অংশিদার এখন অনেক। অংশিদারদের মধ্যে ঐক্যের অভাবে পুকুরটি সংস্কার করা যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে পুকুরটি পরিণত হয় ময়লা আবর্জনার তাগড়ায়।

আবর্জনার চাপে পানি পচে দুগন্ধ হয়ে যায়। এরপর বাধ্য হয়ে এই পুকুরের পানি ব্যবহার করছে বাড়ির লোকজন। এমন পরিবেশে পুকুরটি রক্ষায় ইউএনও’র কাছে আবেদন করা হলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে পুকুরটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেখানে দাড়িঁয়ে অংশিদারদের সাথে কথা বলেন। তাদেরকে মালিকানার স্ব স্ব কাগজপত্র নিয়ে তার অফিসে হাজির হতে বলেন। এরমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলেই উপস্থিত হলে ইউএনও তাদের অবগতির জন্য জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে শাস্তির বিধান সমূহ পড়ে শুনান। এই পেক্ষাপটে মরতে বসা পুকুরটি রক্ষায় অংশিদারদের করণীয় নির্ধারণ করতে তিনি সময় বেঁধে দেন। পরে সকলেই ঐকমত্যে এসে পুকুরটি রক্ষায় প্রশাসনকে ভূমিকা নিতে অনুরোধ করেন। অংশিদারদের এই প্রস্তাবে প্রশাসন পুকুরটি সংস্কার করার কাজে উদ্যোগ নেয়। এই সিদ্ধান্তের আলোকে নির্বাহী কর্মকর্তার তত্বাবধানে পুকুরটি সংস্কার করা হয়। গত ২৮ মে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ওই পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে সাত হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন ইউএনও শামীম হোসেন রেজা। তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন এখন এই পুকুরের স্বচ্ছ পানি ব্যবহার করে মানুষ স্বস্তি পাবে। রাউজানের কোনো জলাশয় এখন আর মরতে দেয়া হবে না। অংশিদারদের অনৈক্যের কারণে কোনো জলাশয় হাজামজা অবস্থায় দেখা গেলে ওসব জলাশয় প্রশাসন নিজের আয়ত্বে নিয়ে মাছ চাষ করবে। এতে সমাজ, দেশ উপকৃত হবে। মরবে না কোনো পুকুর দিঘি।